সীমান্ত দিয়ে পেঁয়াজ ঢুকলেও প্রভাব পড়েনি খুলনার বাজারে। গেল দুই সপ্তাহ ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে দাম। পাইকারি বাজারে ঘাটতি না থাকলেও এখনও বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ।
পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম দেশির চেয়ে সামান্য কম। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন দামের বিস্তর ফারাক না থাকলে ক্রেতারা দেশি পেঁয়াজ ক্রয় করেন।
নগরীর খালিশপুর চিত্রালি, গল্লামারী, ময়লাপোতা, জোড়াকল এবং রূপসা বাজার ঘুরে জানা যায়, খুচরায় প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা।
অন্যদিকে সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১৫-২০টি আড়তের মধ্যে মাত্র একটি আড়তে ৮-১০ বস্তা ভারতীয় পেঁয়াজ রয়েছে। সেই পেঁয়াজ প্রতি কেজির দর হাকানো হচ্ছে ৫৮-৬২ টাকা। সেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৮ টাকা।
রূপসা বাজারের ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, শুনেছি ভারত থেকে পেঁয়াজ এসেছে, ভেবেছিলাম বাজারে হয়তো পেঁয়াজের দাম কম থাকবে। কম তো দূরের কথা ভারতীয় পেঁয়াজই এ বাজরে পেলাম না।
সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজারের হেলাল ভান্ডারের কামরুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম সামান্য কম, এজন্য খুচরা বিক্রেতারা দেশি পেঁয়াজ নিচ্ছেন। এ পেঁয়াজ সাধারণত হোটেল মালিকরা কেনেন। দেশির থেকে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেশ ফারাক হলে তখন মানুষ কেনেন।
নগরীর গল্লামারী পাইকারি বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. বাদশাহ বলেন, ৬৫-৬৬ টাকা দরে ২১০ কেজি পেঁয়াজ কিনেছি। প্রায় এক মাস ধরে এমন দাম চলছে। ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের প্রভাব আমাদের বাজারে নেই বললেই চলে। কেন এমন দাম বোঝা কষ্ট।
এ বাজারে আসা ক্রেতা রেবেকা সুলতানা বলেন, দাম বাড়তি। এজন্য মাত্র এক কেজি পেঁয়াজ কিনেছি। দামের উপর চাহিদা নির্ভর করে। দর্জির কাজ করে কতই বা আর ইনকাম হয়! দাম কম থাকলে দুই কেজি নিতাম।
ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারের খুচরা বিক্রেতা শুভ বলেন, বাজারে প্রায় মাস খানেক ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়তি। আমরা সামান্য লাভে বিক্রি করি। বেঁচাকেনা বেশি হলে আমাদের লাভও বেশি হয়। একমাস আগে যত পেঁয়াজ বিক্রি করেছি, এখন তার চেয়ে বেশ কমই বিক্রি হচ্ছে।
খালিশপুর চিত্রালী বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা বাজারে নেই বলা যায়। দেশি পেঁয়াজ থেকে যদি ১৫-২০ টাকা কম হয়, তাহলে ক্রেতারা ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে।
নগরীর জোড়াকল বাজারের ভাই ভাই স্টোরের আলিমুল শেখ বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ দ্রুত পঁচে যায়। তিন থেকে চার দিন আগে ২০ কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলাম, ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। যেখানে দেশি পেঁয়াজের দাম ৭৫-৮০ টাকা, সেখানে ভারতীয় কেন কিনবে কাস্টমার? তিনি বলেন, আমাদের দেশের আদা, পেঁয়াজ এবং রসুন সারা বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এটি আমাদের গর্বের বিষয়।
খুলনা গেজেট/এনএম